কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন

কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন

জাতীয়

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। সীমান্তের স্থল ও জলপথ দিয়ে প্রতিদিন নতুন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ঢলের অষ্টম বর্ষপূর্তির দিন কক্সবাজারে আয়োজিত হচ্ছে ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন’, যা ২৪ আগস্ট শুরু হয়েছে। ২৫ আগস্ট সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গত রমজানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্টোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে ড. ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন, আগামী রমজানে রোহিঙ্গারা তাদের স্বদেশ রাখাইন রাজ্যে ঈদ উদযাপন করবেন। এবারও প্রধান উপদেষ্টার সফর রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে। কক্সবাজার জেলায় আলোচনা হচ্ছে, এই সফরের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের কোনো পথ বের হবে কি না।

মিয়ানমারের রাখাইনে আবারও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় নতুন রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে প্রবেশ করেছেন। টেকনাফ ক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে অন্তত ২০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা নাফ নদ পার হয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সীমান্তে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অপেক্ষমাণ থাকলেও, সবার প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারে বর্তমানে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। এর মধ্যে ২০১৭ সালের আগস্টের পর ৮ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। আট বছরে একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।

রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গুরুত্ব:
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ২৪, ২৫ ও ২৬ আগস্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রায় ৪০টি দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ আশা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গারা নিজস্বভাবে মতপ্রকাশ ও সমস্যা তুলে ধরতে পারবেন।

সম্প্রতি রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। তারা হলেন:

  • ১৫ নম্বর ক্যাম্প: মৌলভি সৈয়দ উল্লাহ

  • ১৩ নম্বর ক্যাম্প: খিন মং

  • ১ নম্বর ইস্ট ক্যাম্প: জাহাঙ্গীর আলম

  • ১ নম্বর ওয়েস্ট ক্যাম্প: মোহাম্মদ শোয়াইফ

  • ১৫ নম্বর ক্যাম্প: সাজেদা বেগম

নির্বাচিত রোহিঙ্গা নেতা সৈয়দ উল্লাহ জানান, “আমাদের লক্ষ্য হলো অধিকার, মর্যাদা ও সমতার সঙ্গে মাতৃভূমি আরাকানে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করা। আমরা ড. ইউনূসের ওপর আস্থা রাখি এবং আশা করি তিনি আমাদের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ করবেন।”