বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া ৩ থেকে ৫ বছর পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তাদের মতে, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানো, ওষুধ ও তৈরি পোশাক শিল্পের বড় সংকট এবং বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই অতিরিক্ত সময় অত্যন্ত জরুরি।
রবিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘এলডিসি থেকে উত্তরণে চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে আইসিসি বাংলাদেশ সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “এলডিসি থেকে উত্তরণ নিঃসন্দেহে জাতির জন্য বড় অর্জন। তবে সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া এটি বড় চ্যালেঞ্জ বয়ে আনতে পারে। এজন্য ৩ থেকে ৫ বছরের অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।”
জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড—মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক—দুইবার পূরণ করায় বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। তবে ব্যবসায়ী নেতাদের আশঙ্কা, উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় বাজারগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল হতে পারে। এতে রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একইসঙ্গে ডব্লিউটিও সুবিধা যেমন রপ্তানিতে ভর্তুকি ও মেধাস্বত্ব আইন (ট্রিপস) ছাড় বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে এ খাত স্থানীয় চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করছে এবং ১৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করছে। কিন্তু মেধাস্বত্ব ছাড় উঠে গেলে ক্যান্সার ও এইচআইভি’র মতো জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ক্যান্সারের ওষুধ ‘ইমাটিনিব’-এর খরচ মাসে ৩০-৪০ ডলার থেকে বেড়ে ২-৩ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।
তৈরি পোশাক খাতের (আরএমজি) ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি রয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও কঠোর কমপ্লায়েন্স আইন আরএমজি শিল্পকে চাপে ফেলবে।
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটও উত্তরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭.৫৬ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে নিট বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ১৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে প্রতিবেশী ভিয়েতনামের এফডিআই ছিল ৩৮.২৩ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে রয়েছে জ্বালানি সংকট, লজিস্টিকস দুর্বলতা, টাকার ৪৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন ও ১০৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণের চাপ।
ব্যবসায়ী নেতারা আরও উল্লেখ করেন, মালদ্বীপ, ভানুয়াতু, নেপালসহ অনেক দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি সময় নিয়েছে। তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ সুযোগ থাকা উচিত।
এ সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইসহ ১৫টি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
