আজ পালিত হচ্ছে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আজ পালিত হচ্ছে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

রাজনীতি

সংস্কারের মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর। দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংস্কার প্রস্তাব— এমনটাই মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা বলছেন, বর্তমান সময়ে বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো জনআকাঙ্ক্ষা অনুধাবন, প্রোপাগান্ডার জবাব দেওয়া এবং সংসদকে কার্যকর রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয় বিএনপি। দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয় জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই। পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার আমলে যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী রাজনীতির সংগ্রাম গণতান্ত্রিক চর্চার বড় উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, “রাজনীতিতে সহনশীলতা ও ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি বিএনপির হাত ধরেই শুরু হয়েছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ ক্ষমতায় ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রে রূপান্তর করা।”

রাজনীতি বিশ্লেষক হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট জিয়া শুধু সংস্কারের দিকনির্দেশনাই দেননি, সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবেও অঞ্চলীয় সহযোগিতায় ভূমিকা রেখেছেন। অর্থনীতি ও বেসরকারি খাতের উন্নয়নেও ছিল তার বিশেষ মনোযোগ।

এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ছিদ্দুকুর রহমান খান বলেন, “স্বাধীনতার পর দেশে সংস্কারের একটি বড় ভিত্তি তৈরি করেছিলেন জিয়া। তার ১৯ দফা আজও দেশের জন্য প্রাসঙ্গিক।”

প্রায় অর্ধশতাব্দী অতিক্রম করা এই দলটি নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। গত বছরের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপিকে টিকে থাকতে হলে উদার-গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের কোনো বিকল্প নেই।