পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় পৃথক স'ন্ত্রা'সী হা'ম'লা'য় নি'হ'ত ২২

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় পৃথক স’ন্ত্রা’সী হা’ম’লা’য় নি’হ’ত ২২

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক তিনটি সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটা-তে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলার সন্দেহে বিস্ফোরণে ১১ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা হামজা শফাত বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে জানিয়েছেন, “সমাবেশ শেষে মানুষ যখন বের হচ্ছিল, ঠিক তখনই পার্কিং এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে।”

অন্যদিকে, বেলুচিস্তান প্রদেশে জঙ্গিদের হামলায় ৯ সেনা নিহত হয়। ওয়াশুক জেলার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ডজনখানেক জঙ্গি একটি থানা ও সীমান্তরক্ষী ক্যাম্পে হামলা চালায়। এরপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী অভিযানে অংশ নিয়ে চার দিনের মধ্যে ৫০ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

আইএসপিআর ‘খাওয়ারিজ’ শব্দ ব্যবহার করেছে, যা সাধারণত পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০২২ সালের নভেম্বরে টিটিপি-এর সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর আফগান সীমান্তবর্তী পশ্চিম পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো মূলত বেলুচিস্তান প্রদেশে ঘটে, যেখানে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিদ্রোহ চালাচ্ছে। টিটিপি প্রধানত খাইবার পাখতুনখোয়ায় হামলা চালাচ্ছে, যার লক্ষ্য নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও সাধারণ মানুষ।

ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, ভারত বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে এবং আফগানিস্তান তাদের মাটিকে পাকিস্তানে হামলার জন্য ব্যবহার করছে। তবে কাবুল ও নয়াদিল্লি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চলতি বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত চরমে পৌঁছায়। চারদিন ধরে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ একে অপরকে ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং গোলাবর্ষণে আঘাত করে, যার ফলে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়।