চট্টগ্রাম বন্দরের অনুমোদনে সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু উত্তোলন

চট্টগ্রাম বন্দরের অনুমোদনে সন্দ্বীপ চ্যানেলে বালু উত্তোলন

চট্টগ্রাম দেশ জুড়ে

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আপত্তি থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সন্দ্বীপ চ্যানেলে চারটি কোম্পানিকে এক বছরের জন্য বালু উত্তোলনের ইজারা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সলিমপুর থেকে বাঁশবাড়িয়া পর্যন্ত এলাকা চারটি ব্লকে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১ নম্বর ব্লকে রাইজিং কম্পানি, ২ নম্বরে ডিপ ডিঘার্স, ৩ নম্বরে কনস্টা এইচএলআই এবং ৪ নম্বরে এমআরআই দায়িত্ব পেয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ছাড়া বালু উত্তোলন শুরু করলে সন্দ্বীপ চ্যানেল, উপকূল এবং নৌপথের নিরাপত্তা বিপন্ন হবে। চ্যানেলে বালুকাটা এলাকা জাহাজভাঙা শিল্প এবং চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উপপরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, “কাট্টলী থেকে নোয়াখালী পর্যন্ত রুট বহু বছর ধরে বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধানে। হঠাৎ কোনো আলোচনা ছাড়া বন্দরের টেন্ডার আহ্বান বিস্ময়কর।”

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে মিরসরাই পর্যন্ত পোর্ট লিমিট সম্প্রসারণ করা হয়। তবে সেখানে কার্যক্রম শুরু হয়নি এবং বন্দরের সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর কোনো সমঝোতা হয়নি। চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিং ও জরিপের মাধ্যমে নাব্যতা বজায় রাখা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, “মিরসরাই পর্যন্ত পোর্ট লিমিট বৃদ্ধির পরও বন্দরের অভ্যন্তরীণ এলাকায় নাব্যতা রক্ষায় ড্রেজিং নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। টেন্ডারও সেই ধারাবাহিকতায় আহ্বান করা হয়েছে।”

বিআইডব্লিউটিএ সতর্ক করেছে, পরিকল্পনা ছাড়া বালু উত্তোলন উপকূলীয় ভাঙন, পরিবেশ বিপর্যয় এবং নৌপথে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।