সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করল। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা অন্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে ভবিষ্যতে উভয় দেশ মিলে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিষয়টি স্বাগত জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন—
“এখন থেকে সৌদি আরব বা পাকিস্তান আক্রান্ত হলে সেটিকে দুই দেশ নিজেদের ওপর আগ্রাসন হিসেবে দেখবে এবং একসঙ্গে জবাব দেবে। আলহামদুলিল্লাহ!”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য এমন প্রতিরক্ষা চুক্তি অত্যন্ত জরুরি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের দৃশ্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তি উভয় দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার যৌথ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে।
সৌদি আরবের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, “এই চুক্তি বছরের পর বছর ধরে আলোচনার ফল। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিনের গভীর সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত বর্তমানে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও, উভয় সম্পর্ককে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
