মহাসপ্তমীতে দেবী দুর্গার জাগরণ: ঢাকেসহ সারাদেশে উৎসবমুখর দুর্গাপূজা শুরু

মহাসপ্তমীতে দেবী দুর্গার জাগরণ: ঢাকেসহ সারাদেশে উৎসবমুখর দুর্গাপূজা শুরু

জাতীয়

পঞ্চমীর বোধন এবং ষষ্ঠীতে আমন্ত্রণ-অধিবাস ও ষষ্ঠীবিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মহাসপ্তমী। ষষ্ঠী থেকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও সপ্তমী থেকেই মূল পূজা শুরু হয়।

এই তিথিতে দেবীর অন্নভোগ শুরু হয় এবং দেবী দুর্গার জাগরণ ঘটে। বিশ্বাস করা হয়, আজ থেকেই দেবী দশহাতে অশুভ ও অমঙ্গল দমন করবেন।

সকালে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত হয় নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ ও আরতির মাধ্যমে চলে দেবীর বন্দনা। এ বছর দেবী এসেছেন গজ বা হাতিতে চড়ে, যা হিন্দু শাস্ত্রমতে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। তবে দেবী যাবেন দোলায়, যার অর্থ পৃথিবীতে মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে।

মহাসপ্তমীর অন্যতম আকর্ষণ নবপত্রিকা পূজা। কলাবউ নামে পরিচিত এই নবপত্রিকা গঠিত হয় ৯টি উদ্ভিদের সমন্বয়ে—কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, দাড়িম, অশোক, মান ও ধান। এগুলো দেবী দুর্গার ৯টি রূপের প্রতীক। নবপত্রিকা পূজার পর দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানো হয়।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, রমনা কালীমন্দির, আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, গুলশান-বনানী পূজা মণ্ডপ, পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে দুর্গাপূজা।

এবার ঢাকা মহানগরের ২৫৯টি পূজা মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা। আর বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।