মালয়েশিয়ায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গ্লোবাল পিস মিশনের (জিপিএম) চেয়ারম্যান ও সিনেট সদস্য ড. জুফিতরি জোহা আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার অনুষ্ঠিত ‘হিমপুনান সলিডারিটি গাজা’ সমাবেশে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয় নয়—এটি একটি বৈশ্বিক মানবিক সংকট। তিনি আরও জানান, অনেক ইহুদি কর্মীও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রামকে মানবতার ইস্যু হিসেবে দেখেছেন। মালয়েশিয়ায় অমুসলিম সমাজে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে, তাই প্রতিটি আয়োজনে অমুসলিম সমাজকেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানানো উচিত।
মালয়েশিয়ার ইসলামিক বোঝাপড়া ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাদিয়া দাতুক মোহাম্মদ আজাম মোহাম্মদ আদিল বলেন, “যে কোনো বিবেকবান মানুষ ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যাকে উপেক্ষা করতে পারে না। ধর্ম বা জাতিগত বিভেদ ছাড়াই মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।”
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম, যিনি জানান, মালয়েশিয়া গাজার জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যাতে ভবিষ্যতে সহায়তা স্থলপথে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন নীরব থাকতে পারে না। গাজার মানুষদের খাদ্য, পানি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উপাসনালয়ের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রায় ১৬–২০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এবং সদ্য দেশে ফেরা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মিশনের ২৩ জন মালয়েশিয়ান স্বেচ্ছাসেবী।
সমাবেশে ড. সানি আরাবি আব্দুল আলিম প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দেন, যাতে ফিলিস্তিনের জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের মানবিক মিশনে পূর্ণ সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি স্থলপথে সাহায্য পাঠানো সম্ভব হলে গাজার পুনর্গঠনও সহজ হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া মুসলিম বিশ্বের নৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যা ফিলিস্তিন ইস্যুতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূমিকা আরও জোরদার করবে।
