২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন প্রখ্যাত বিশ্লেষক। চিঠিতে দেশের সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সাত বছর পরও তিনি একই বার্তা দিচ্ছেন: ভয়কে পরাজিত করা না হলে স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থাকবে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ২৫ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। নির্বাচনে ভোটচুরি, ঘুষ-লেনদেন, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবা বিপর্যয়, চাঁদাবাজি—এ সব মিলিয়ে প্রশাসন দুর্বল ও জনদূর্ভোগের কারণ হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, আইনের শাসন দুর্বল ও দলনির্ভর হওয়ায়, দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে অপরাধীরা পালিয়ে যায়, কিন্তু ন্যায়বিচার ব্যর্থ হয়।
গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ: গণতন্ত্র মানে কেবল ভোট নয়, এটি হলো বাকস্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং নাগরিক কর্তব্য। প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি গণতন্ত্রকে হুমকিতে ফেলে এবং দেশের কাঠামো অরাজকতার দিকে নিয়ে যায়।
সশস্ত্র বাহিনী ও দেশের উন্নয়ন: সশস্ত্র বাহিনী শুধুমাত্র ব্যারাকে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো নির্মাণে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগানো উচিত।
অভ্যন্তরীণ হুমকি: দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনে বিদেশি প্রভাব (‘র’-R&AW) বিপজ্জনক। এটি আতঙ্ক তৈরি করে এবং জাতির স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরতার জন্য সরাসরি হুমকি।
অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ: বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈষম্যের ফাঁদে আটকা। স্থানীয় উদ্যোক্তা, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সমবায়ভিত্তিক অর্থনীতি পুনর্গঠন করে টেকসই অর্থনীতি গড়তে হবে।
করণীয় পদক্ষেপ:
-
রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি করে দেশের স্বার্থ রক্ষা।
-
প্রশাসন শক্তিশালীকরণ ও ‘র’-মুক্ত রাখা।
-
সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ ক্ষমতায় নিয়োজিত করা।
-
জনগণকে সচেতন করে ভয় পরাজিত করা।
-
স্বচ্ছতা ও হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
-
আইন কার্যকর করা, পালিয়ে যাওয়া দায়ীদের ফিরিয়ে আনা।
-
স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন।
-
অর্থনীতি ও বিদেশি প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা।
শেষ আহ্বান: ভয়কে জয় করুন, সত্য বলুন, গণতন্ত্র চর্চা করুন, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনকে কাজে লাগান। যে জাতি ভয়কে জয় করতে পারে, সে স্বাধীন। যে জাতি ‘র’-কে নির্মূল করতে পারে, সে গড়ে তুলতে পারে সোনার বাংলা।
