মায়ানমারে সামরিক জান্তা পুনর্দখলের পেছনে চীনের কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা

মায়ানমারে সামরিক জান্তা পুনর্দখলের পেছনে চীনের কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা

আন্তর্জাতিক

গত এক বছরে মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দখলকৃত শহর ও সীমান্ত অঞ্চল পুনর্দখল করছে সেনাবাহিনী, এবং এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে চীনের সরাসরি সহায়তা। কূটনৈতিক সমর্থন, যুদ্ধ প্রযুক্তি, অস্ত্র সরবরাহ ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বেইজিংয়ের ভূমিকা স্পষ্ট।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ‘অপারেশন ১০২৭’-এর মাধ্যমে তিনটি শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী—টিএনএলএ, এমএনডিএএ ও আরাকান আর্মি—মিলিতভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। তারা প্রায় ১৮০টি সামরিক ঘাঁটি দখল করে উত্তর শান রাজ্যের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিন্তু ২০২৪ সালের শেষের দিকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চীনের সহায়তায় সেনাবাহিনী ঘুরে দাঁড়ায়, উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ও নতুন যুদ্ধাস্ত্র পেয়ে সীমান্তবর্তী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে কিয়াউকমে ও হসিপাওসহ কৌশলগত শহরগুলো পুনর্দখল হয়।

বর্তমানে চীনা ড্রোন ও রুশ-চীনা যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে প্রতিদিন বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে বোমা ফেলা হচ্ছে। বাধ্যতামূলক সেনাভর্তির মাধ্যমে নতুন ৬০ হাজার তরুণ সেনা দলে যুক্ত হয়েছে। সেনারা মূলত বাণিজ্যপথ, সীমান্ত রুট এবং নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত শহরগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিচ্ছে।

বিদ্রোহী শিবির এখনও বিভক্ত ও নেতৃত্বহীন, এবং স্থানীয় ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)’ এর কোনো কেন্দ্রীয় সমন্বয় নেই। চীনের কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে বিদ্রোহীদের জন্য অস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বেইজিং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—তাদের লক্ষ্য স্থিতিশীলতা, কারণ চীনের স্বার্থ সীমান্ত নিরাপত্তা, দক্ষিণমুখী বাণিজ্যপথ এবং বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। চীনের মধ্যস্থতায় অনেক বিদ্রোহী যুদ্ধ বন্ধে রাজি হয়েছে, এবং সীমান্তে কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি হয়েছে।

যুদ্ধের ভয়াবহতা এখনও থেমে নেই। সেনা বিমান হামলায় হাজারেরও বেশি বেসামরিক নিহত, ১ লাখ ২০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে রাখাইন ও চিন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনী এখনও সক্রিয়। মায়ানমারের এই যুদ্ধে শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়—এটি পরিণত হয়েছে আঞ্চলিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার লড়াইয়ে, যেখানে চীনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।