তিন দফা দাবি আদায়ে আজ রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
এ সিদ্ধান্ত আসে শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে শাহবাগে শিক্ষক-পুলিশ সংঘর্ষের পর। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। এতে শিক্ষক, পুলিশ ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ১১০ জন আহত হয়েছেন।
পরে চারটি শিক্ষক সংগঠনের জোট ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করে এবং জানায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান চলবে।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবি:
১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ,
১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড জটিলতা নিরসন,
শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন।
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, “দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।”
সংঘর্ষের বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “কর্মসূচি শেষে শিক্ষকদের শহীদ মিনারে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও একটি অংশ ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চেষ্টা করে এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।”
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন, “বিনা উসকানিতে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করেছে।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, “শতাধিক আহত জরুরি চিকিৎসা পেয়েছেন, তবে গুরুতর কেউ নেই।”
ডিএমপি এক বিবৃতিতে আরও জানায়, বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তার স্বার্থে ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং সবাইকে শাহবাগ এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষেধাজ্ঞা মানার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
