বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন যুগের ভিত্তি গড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেসসচিব শফিকুল আলম

বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন যুগের ভিত্তি গড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেসসচিব শফিকুল আলম

জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

রোববার (৮ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য তুলে ধরেন।

পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, গত ১৫ মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কিন কৃষি অর্থনীতি ও ফার্ম লবির সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবং পরবর্তীতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ড. খলিলুর রহমানকে ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠান।

ড. খলিল একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি বিশেষজ্ঞ, যিনি জাতিসংঘে দীর্ঘদিন উচ্চপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি শিল্পের নীতিনির্ধারক ও কৃষি লবির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি দ্রুত ভূমিকা রাখেন।

প্রেসসচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ খাদ্যপণ্যের বড় আমদানিকারক দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সর্ববৃহৎ সয়াবিন, গম, ভুট্টা ও তুলা রপ্তানিকারক। ফলে মার্কিন কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশ খাদ্যনিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি খাদ্য আমদানির উৎস বহুমুখীকরণে সহায়তা করবে এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি আমদানিকারক ও মার্কিন ফার্ম লবির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে ড. খলিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, যার প্রভাব ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাম্প্রতিক শুল্ক আলোচনায় স্পষ্ট ছিল। তার কার্যকর আলোচনার ফলে প্রতিযোগিতামূলক শুল্কহার নিশ্চিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে সুরক্ষা দিয়েছে।

পোস্টে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশি আমদানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা উভয় দেশের জন্য উইন-উইন অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক।

শফিকুল আলম বলেন, চীন যখন ব্রাজিল থেকে সয়াবিন আমদানি বাড়িয়েছে, তখন বাংলাদেশ আমেরিকান কৃষিপণ্যের বড় ক্রেতা হিসেবে সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও কৌশলগত অবস্থানে নিয়ে যাবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বড় শুল্ক সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের পোশাক খাত যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকৃত সম্পূর্ণ তুলা আমদানি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

তিনি আরও লিখেন, শক্তিশালী বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে ওয়াশিংটনে ব্যয়বহুল লবিস্ট গ্রুপের প্রয়োজন কমবে, কারণ মার্কিন ফার্ম লবি নিজেই বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দিতে পারবে—যাদের আমেরিকান নীতিনির্ধারণে বিশাল প্রভাব রয়েছে।

শফিকুল আলম উদাহরণ টেনে বলেন, জাপান, চীন, দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত বাণিজ্য–সম্পর্কের ফলে উন্নতির শীর্ষে পৌঁছেছে, আর এখন বাংলাদেশও সেই সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই নতুন সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের ভিত্তি স্থাপন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।”