দেশজুড়ে শীত নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কুয়াশা, কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। সাধারণত ২৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ থাকে, তাই শীতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কম থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—শীতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ থামছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহেই ৪ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রাজধানীর বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বরগুনা জেলায়, যেখানে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৯ জন রোগী। দেশের আরও অনেক জেলায় একই রকম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেছেন, গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আগামী ৩০–৪০ বছর উচ্চ পর্যায়ে থাকবে, যার ফলে আক্রান্ত এবং মৃত্যুহার উভয়ই বেশি হতে পারে।
এদিকে মোট আক্রান্তের তিন ভাগের দুই ভাগই রাজধানীর বাইরে, তবুও অনেক স্থানে মশা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের দেখা মিলছে না। ফলে পরিস্থিতি এখন প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানান, ডিসেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তিনি জানান, সাধারণত শীতে ডেঙ্গু কমলেও এ বছর তা হবে না। এই ঢেউ আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে, এরপর ধীরে ধীরে কমবে।
আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণই এখন সবচেয়ে জরুরি। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলে এডিস মশার প্রজনন পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় ভিন্ন কৌশলে কাজ করতে হবে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭৭ জন, যার মধ্যে নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে।
