বিনোদন দুনিয়ার রঙিন আলো ও রেড কার্পেটের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক অন্ধকার গল্প। সেই অন্ধকারের পর্দা এবার নিজেই সরালেন মালতী চাহার। সালমান খান সঞ্চালিত বিগ বস ১৯-এ অংশ নেওয়ার পর ভারতের জনপ্রিয় সঞ্চালক সিদ্ধার্থ কানানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছেন।
মালতী বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু মানুষ শরীরী ভাষা বা আচরণের মাধ্যমে একজন মানুষের সীমা বোঝার চেষ্টা করেন। দু-একজন আমার সীমা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করেছিলেন, এমনকি একজন দুর্ব্যবহারও করেছিলেন। তবে স্পষ্ট আচরণ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণে বেশিরভাগই এগোতে সাহস পাননি।’
তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারতীয় বিমানবাহিনীতে কর্মরত বাবার কাছ থেকে পাওয়া শৃঙ্খলা ও স্পষ্টতার শিক্ষা তার ব্যক্তিত্বে প্রতিফলিত হয়েছে। মালতী বলেন, ‘পরিবারের শিক্ষা অনেক সময় মানুষকে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত রাখে।’
নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেছেন, ‘মেয়েদের সচেতন থাকা উচিত। কিছু পুরুষ ক্ষমতা বা অবস্থানের অপব্যবহার করতে পারে। মিষ্টি কথায় ভুলে গেলে চলবে না। সব সময় নিজের সীমা দৃঢ়ভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।’
সাক্ষাৎকারে মালতী একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার উদাহরণও দিয়েছেন। এক প্রজেক্ট শেষে নিয়মিত দেখা হওয়া এক পরিচালক সৌজন্যবশত জড়িয়ে ধরেন, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি তার ঠোঁটে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন। মালতী বলেন, ‘আমি পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে তাকে থামাই এবং এরপর আর কখনো দেখা করিনি।’
মালতী চাহারের এই অভিজ্ঞতা কেবল একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত কষ্ট নয়, বরং বিনোদন দুনিয়ার বহু নারীর নীরব বাস্তবতার প্রতিফলন। তার সাহসিকতা মনে করিয়ে দেয়, চুপ করে সহ্য করা নয়, সচেতনতা এবং দৃঢ় অবস্থানই অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলো জ্বালাতে পারে।
