ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার পিতা বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যাকারী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তারা এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছেন এবং একদলীয় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের চকরিয়ার পহরচাদা কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দীর্ঘ ১৫–১৬ বছর দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালু করেছিলেন। এর ফলাফল হিসেবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ একটি ভারতনির্ভর দল হিসেবে কাজ করেছে এবং কখনোই বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান করেনি। মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তারা জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করেছে।
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে, আলেম সমাজের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং আলেমদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মূলত একটি ইসলামবিদ্বেষী সরকার হিসেবে কাজ করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ রাতের আঁধারে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়ে নিরীহ মাদরাসা শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে দলটি এ দেশের গণমানুষের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এর ফলেই আওয়ামী লীগ জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ থেকে উৎখাত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজি। এতে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, পহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার, উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
