স্মার্টফোন ব্যবহারে চোখের ওপর চাপ কমাতে ও ব্যাটারি সাশ্রয়ের আশায় অনেকেই ডার্ক মোড ব্যবহার করেন। উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে চলতে চান বলেই বেশিরভাগ ব্যবহারকারী সারাক্ষণ ফোন রাখেন ডার্ক মোডে। তবে বাস্তবে ডার্ক মোড নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো সব ক্ষেত্রে কতটা সঠিক, তা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন মত।
বর্তমানে প্রায় সব স্মার্টফোনেই ডার্ক মোড সুবিধা রয়েছে। অনেক ব্যবহারকারীর বিশ্বাস, গাঢ় রঙের স্ক্রিন চোখে আরাম দেয় এবং ব্রাইটনেস কম থাকায় ব্যাটারিও কম খরচ হয়। প্রথম দেখায় বিষয়টি যৌক্তিক মনে হলেও বাস্তবতা এতটা সরল নয়।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅব (MakeUseOf)–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডার্ক মোড নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটি তৈরি হয়েছে ওএলইডি ডিসপ্লে ঘিরে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, কালো পিক্সেল বিদ্যুৎ খরচ করে না। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ অ্যাপ ও সিস্টেম ডার্ক মোডে খাঁটি কালোর পরিবর্তে গাঢ় ধূসর রঙ ব্যবহার করে। এই ধূসর পিক্সেলগুলোও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, ফলে প্রত্যাশার মতো ব্যাটারি সাশ্রয় অনেক সময় হয় না।
চোখের স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রেও ডার্ক মোড সব সময় আদর্শ নয়। দীর্ঘদিন ধরে বই ও সংবাদপত্র সাদা কাগজে কালো অক্ষরে ছাপা হচ্ছে, কারণ এই রঙের সমন্বয় চোখের জন্য তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক। ডার্ক মোডে উল্টোভাবে হালকা লেখা গাঢ় ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখানো হয়, যা দীর্ঘ সময় পড়লে চোখে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কনট্রাস্ট সঠিকভাবে সমন্বয় না হওয়ায় চোখের ক্লান্তিও বাড়ে।
ডিজাইনের দিক থেকেও ডার্ক মোড সব অ্যাপে মানানসই নয়। অনেক অ্যাপ প্রথমে শুধু লাইট মোডের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। পরে ডার্ক মোড যোগ করায় কিছু আইকন ও রঙ গাঢ় ব্যাকগ্রাউন্ডে ফিকে বা অস্বাভাবিক দেখায়, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে।
একসময় ডার্ক মোড একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হলেও এখন অনেকেই এর সীমাবদ্ধতা বুঝতে শুরু করেছেন। এটি সব ফোনে ব্যাটারি বাঁচায় না এবং সব অ্যাপে চোখের জন্যও সমান উপকারী নয়।
ডার্ক মোডে যদি পড়তে অসুবিধা হয় বা ডিজাইন পছন্দ না লাগে, তাহলে সেটি বন্ধ করা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নয়। শেষ পর্যন্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের উদ্দেশ্য একটাই—নিজের স্বাচ্ছন্দ্য।
