‘ক্রিকেট হাইজ্যাক’-এর অভিযোগের মুখে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

‘ক্রিকেট হাইজ্যাক’-এর অভিযোগের মুখে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

খেলাধুলা

মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। আইপিএল থেকে এই তারকা পেসারকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ দল ভারতে সফর করবে না।

এই সিদ্ধান্ত ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝাড়লেন বিসিবির সাবেক সচিব সৈয়দ আশরাফুল হক। তিনি সরাসরি এশিয়ার ক্রিকেট প্রশাসন ও আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।

সৈয়দ আশরাফুল হকের অভিযোগ, এশিয়ার ক্রিকেট ব্যবস্থাকে কার্যত রাজনীতি দিয়ে ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে। তার মতে, জগমোহন ডালমিয়া, আইএস বিন্দ্রা, মাধবরাও সিন্ধিয়া, এন কে পি সালভে কিংবা এন শ্রীনিবাসনের সময় থাকলে মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে এমন বিতর্কের সৃষ্টি হতো না।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—সব দেশেই ক্রিকেট প্রশাসন এখন রাজনীতিবিদদের হাতে বন্দি। যারা ক্রিকেট বোঝেন এবং খেলোয়াড়দের ওপর সিদ্ধান্তের প্রভাব উপলব্ধি করেন, তারা দায়িত্বে থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেরও কঠোর সমালোচনা করেন সাবেক এই বিসিবি কর্মকর্তা। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘এখন ক্রিকেট পুরোপুরি রাজনীতির কবলে। যারা ক্রিকেট চালাচ্ছেন, তাদের অনেকেই কখনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি। জয় শাহ নিজেও কখনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হঠকারী মন্তব্য করা হচ্ছে। এটা আইপিএল নয়, এটা বিশ্বকাপ—একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন।’

সৈয়দ আশরাফুল হকের দাবি, মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, মুস্তাফিজের জায়গায় যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার থাকতেন, তাহলে হয়তো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

তার অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ক্রিকেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টকে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ দলের চারটি ম্যাচ রয়েছে—তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইতে। তবে বিসিবির আবেদনের বিষয়ে এখনো আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানো হবে কি না, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।