বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হতে দেওয়া হবে না।
তিনি ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন সময় দেশ গড়া ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’
জনসভায় তারেক রহমান ভোট কেন্দ্র পাহারা দেওয়ারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেওয়ার সময় নিজের ভোট কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। ভোট শেষ করেই চলে যাবেন না, সেখানে অবস্থান রাখতে হবে যাতে কেউ অবৈধভাবে আগে থেকে অবস্থান নিতে না পারে।”
তিনি গাজীপুরবাসীর অবদানের প্রশংসা জানিয়ে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে এই জেলার হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় গিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
নিজের শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “ছোটবেলায় ভাওয়াল মাঠে দৌড়াদৌড়ি ও খেলা করেছি। তাই আমার গাজীপুরের মানুষদের কাছে একটি হক আছে। সেই হিসেবে আপনারা ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবেন।”
তারেক রহমান আরও গাজীপুরের উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে:
-
জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ
-
খাল খনন কর্মসূচি
-
শিল্প-কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন
-
মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড
-
কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড
তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চাইতে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। প্রার্থীরা হলেন: মজিবুর রহমান (গাজীপুর-১), এম মনজুরুল করীম রনি (গাজীপুর-২), এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু (গাজীপুর-৩), শাহ রিয়াজুল হান্নান (গাজীপুর-৪) ও ফজলুল হক মিলন (গাজীপুর-৫)।
এরপর রাত ১টায় তারেক রহমান রাজধানীর উত্তরার ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেন। তিনি ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের পক্ষে ভোট চান। সেখানে তিনি ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দেন, সরকার গঠনের পর উত্তরায় গ্যাস-পানি সংকট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং একটি সরকারি হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।
