ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া গ্রেপ্তার ও জেলজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি পডকাস্টে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরবর্তী দুই দিন কারাগারে কাটানো জীবনের অনেক চেনা মানুষকে নতুনভাবে চিনার সুযোগ দিয়েছে।
ফারিয়া বলেন, “গানের শুটিংয়ে থাইল্যান্ড যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু ঘটতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটক করে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম, আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবী থমকে গেছে।”
জেলজীবনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই অভিনেত্রীকে বড় শিক্ষা দিয়েছে। তিনি বলেন, এই দুই দিনে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যমে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে দিয়েছেন। “যাদের জন্য বছরগুলোর পর নিঃস্বার্থভাবে সব দিয়েছি, সেই মানুষদের অস্তিত্বও নতুনভাবে চিনেছি। তবে কিছু মানুষও পেয়েছি, যাদের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
নুসরাত ফারিয়া জানান, জেলের অভিজ্ঞতায় জেলারের সহানুভূতি, অপরিচিত মানুষদের স্নেহময় আচরণ তাকে স্পর্শ করেছে। “যারা আমাকে খাইয়ে দিয়েছে, লতি দিয়ে ভাত খাওয়িয়েছে, তাদের জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব। এটা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা যা কখনো ভুলব না।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা সংক্রান্ত অভিযোগে ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। তার শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মামলার নথিতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অর্থসাপ্লায়ারের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
নুসরাত ফারিয়া এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, কে আসল বন্ধু এবং কে নয়। পাশাপাশি তিনি মানবিক সহানুভূতির গুণও অনুভব করেছেন, যা তার জীবনের জন্য অনন্য ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
