চলতি বছরের শুরুতে টানা তিন দফা দাম কমার পর আবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হবে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দামে ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।
বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে সবশেষ ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। সে সময় ভরিতে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা, যা কার্যকর হয় ওই দিন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ২৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ দফা দাম বেড়েছে এবং ৮ দফা কমেছে। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়।
স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা রয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১৫ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ৯ দফা দাম বেড়েছে এবং ৬ দফা কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বাড়ে এবং ৩ বার কমে।
