ভারত ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্য ও খনিজ খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। শনিবার দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ইস্পাত চাহিদা মেটানো এবং কাঁচামালের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট এই সপ্তাহের শুরুতে তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লিতে আসেন।
ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ লৌহ আকরিক উৎপাদক দেশগুলোর একটি এবং ইস্পাত উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিপুল মজুদ রয়েছে। ভারতের সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইস্পাত খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে ভারতের প্রবেশাধিকার বাড়াতে উভয় দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নতুন সহযোগিতা অনুসন্ধান কার্যক্রম, খনন এবং ইস্পাত খাত-সম্পর্কিত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেবে। বর্তমানে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ২১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নের কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়তে থাকায় উৎপাদন ক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
মোদির বক্তব্য, “আমরা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের দেশগুলো প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, এআই, সেমিকন্ডাক্টরসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।”
ভারত ও ব্রাজিল ২০০৬ সাল থেকে কৌশলগত অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্রাজিলই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।
এছাড়া, জাতিসংঘের সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাস দমনসহ বৈশ্বিক ইস্যুতে দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। লুলা ব্রাজিল ও ভারতের মধ্যে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজ নিজ মুদ্রায় বাণিজ্য নিষ্পত্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে জানিয়েছেন, দেশটি কোনো ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ চায় না এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না।
