জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপিসির নতুন ব্যবস্থা

জ্বালানি পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপিসির নতুন ব্যবস্থা

জাতীয়

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিভাগীয় শহরগুলোতে অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময় চট্টগ্রাম বন্দরে আরেকটি ডিজেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোয় জ্বালানিসংকট নিয়ে শঙ্কাও কিছুটা কমেছে। তবে কিছু পাম্পকর্মীর বিরুদ্ধে বাড়তি টাকার বিনিময়ে ট্যাংক ভরে জ্বালানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১১ মার্চ) বিপিসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগে অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহ গড় বিক্রির তুলনায় ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। এখন সেই হ্রাসের হার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে বিভাগীয় শহরগুলোর ফিলিং স্টেশনগুলোতে বরাদ্দ অনুযায়ী সরবরাহ ১০ শতাংশ বাড়বে।

বিপিসি জানিয়েছে, হ্রাসকৃত বরাদ্দ যথাযথভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপণন কোম্পানিগুলোর ডিপো সুপার, বিক্রয় কর্মকর্তা এবং ডিলার বা এজেন্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে স্বস্তির খবরও পাওয়া গেছে। সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজটি বন্দরে আসে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ডিজেল খালাস শুরু হয়েছে। এর আগে সোমবার ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি জাহাজ ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছায়।

বিপিসি জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে আরও তিনটি বড় জাহাজ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ১২ মার্চ ‘এসপিটি থেমিস’ জাহাজে আসবে ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল। ১৩ মার্চ ‘র‌্যাফেলস সামুরাই’ জাহাজে আসবে প্রায় ৩০ হাজার টন এবং ১৫ মার্চ ‘চাং হাং হং তু’ জাহাজে আসবে আরও প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে যুক্ত হবে।

এদিকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ অনুমতি বা অস্থায়ী ছাড় (ওয়েভার) চেয়েছে বাংলাদেশ। রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনামন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ভারতের মতো একই ধরনের সুযোগ পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে অস্থায়ী ছাড় দিয়েছে। বাংলাদেশকেও একই সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি ওয়াশিংটনে পাঠানো হবে বলে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছ থেকেও বাড়তি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, আপৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারত সরকারকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পর বিভিন্ন এলাকায় পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ সারি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পাম্প মালিকরা। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাংশের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সরকার একদিকে পর্যাপ্ত তেলের মজুদের কথা বলছে, অন্যদিকে রেশনিং করে সরবরাহ দেওয়ায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং অনেক এলাকায় ঘোষিত সীমার চেয়েও কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।