পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময়ে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে ঈদে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
সংস্থার মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ঈদযাত্রা শুরু হওয়া ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে এই দুর্ঘটনার সংখ্যা দেখা গেছে। বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫%, প্রাণহানী ৮.২৬% ও আহতের সংখ্যা ২১.০৫% বেড়েছে।
বৃহত্তম ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন হলো মোটরসাইকেল। এবারে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় চালক, শিশু, নারী, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িত ছিলেন।
যানবাহনের ধরন অনুযায়ী দুর্ঘটনায় ২৭.১৬% মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩% ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬.২২% বাস, ১৫.২৮% ব্যাটারিচালিত রিক্সা, ৮.৪৯% কার-মাইক্রো, ৭.৭৩% নছিমন-করিমন ও ৭.৩৫% সিএনজি অটোরিক্সা জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ৩৫.৮৩% মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৩৬% পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়া, ২২.২৫% নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা, ৮.৩৮% অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার শীর্ষস্থান হলো জাতীয় মহাসড়ক (৪৩.০৬%), আঞ্চলিক মহাসড়ক (৩০.০৫%) ও ফিডার রোড (২১.৯৬%)। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীসহ রেলক্রসিংয়ে সামান্য দুর্ঘটনা হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে: বেপরোয়া যানবাহন, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, রোড সাইন ও আলোকসজ্জার অভাব, সড়কের নির্মাণ ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন অমান্য।
দূর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে:
প্রযুক্তি ব্যবহার ও স্মার্ট ভাড়া ব্যবস্থা চালু করা ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও মোটরসাইকেল নিবন্ধন ও আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে আলোকসজ্জা বৃদ্ধি দক্ষ চালক প্রশিক্ষণ ও যানবাহন ফিটনেস নিশ্চিত করা সড়ক নিরাপত্তা অডিট এবং রোড মার্কিং, রোড সাইন, ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মালিকদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদযাত্রায় সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য আলমগীর কবির, মনজুর হোসেন ঈসা, ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি বাদল আহমেদ ও অন্যান্য।
