প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের শঙ্কা

জাতীয়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে দেশে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হলেও জ্বালানির ঘাটতির কারণে সেই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে করে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ বাড়ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমলসহ দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো যায়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গ্যাস সরবরাহ ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটেরও নিচে নেমে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও এপ্রিল ও মে মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে প্রায় ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

গত শনিবার সরকারি ছুটির দিনে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। এদিন দিনের বেলায় লোডশেডিং ছিল প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট, যা রাতে একপর্যায়ে বেড়ে ১০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। বিশেষ করে ঢাকা শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি দেখা যাচ্ছে।

মার্চ মাসের শুরুতে দেশে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে চাহিদা কম থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও বর্তমানে আবার লোডশেডিং বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং তাপমাত্রা সহনীয় থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।