নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং পেট্রল পাম্পগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় আছে। তবে একটি অসাধুচক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের ২৮তম ব্যাচের রেটিংদের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, অবৈধভাবে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ ডিজেল ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাহাজটি উদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। বন্দরের মুনাফা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৯টায় হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করলেও গভীর রাতে ইরানি নৌবাহিনী জাহাজটিকে বাধা দেয় এবং ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
তিনি আরও জানান, এর আগে জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে নাবিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশের পর থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটিকে বারবার গন্তব্য পরিবর্তন ও বিলম্বের মুখে পড়তে হয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ভাড়ায় পরিচালিত জাহাজটি সার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরানি নৌবাহিনীর অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের জলসীমার বাইরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
একাধিকবার চেষ্টা করেও জাহাজটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি।
