দ্রোহ, প্রেম ও মানবতার কবিকে নানা আয়োজনে স্মরণ; বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে নজরুলের অবদান আজও অনন্য বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের অমর স্রষ্টা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১১ জ্যৈষ্ঠ জন্ম নেওয়া এই কবি বিদ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন।
কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, সম্পাদক ও অভিনেতা—বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী নজরুল বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন অসামান্য সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে। নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের পক্ষে তার সাহসী উচ্চারণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ তাকে দিয়েছে ‘বিদ্রোহী কবি’র পরিচিতি।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। শৈশব ও কৈশোরে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এই কবি জীবনের বিভিন্ন সময়ে মক্তব, লেটো দলে কাজ করা থেকে শুরু করে রুটি তৈরির কাজও করেছেন।
১৯১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। পরবর্তীতে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করে তিনি দ্রুত আলোচনায় আসেন। ১৯২২ সালে প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। একই বছর তার বিখ্যাত কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশের পর ব্রিটিশ সরকার তাকে কারাবন্দি করে।
মাত্র দুই দশকের সাহিত্যজীবনে প্রায় তিন হাজার গান রচনা করেন নজরুল। পাশাপাশি লিখেছেন অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক। সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনেও ছিল তার উজ্জ্বল উপস্থিতি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কবিকে। পরবর্তীতে তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। কবির ইচ্ছানুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে।
