শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন। প্রস্তাবে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ হিসাব চালু করতে অনলাইন সেবাদাতাদের বাধ্য করার কথা বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, শিশুরা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলোর কিছু ব্যবহার করছে। তবে এসব প্রযুক্তি শিশুদের কল্যাণ ও বিকাশকে বিবেচনায় রেখে তৈরি হয়নি।
প্রস্তাবিত ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিশু আইন’-এর মাধ্যমে বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও শিশুদের জন্য স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের অনলাইন হিসাব ব্যবহারে অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে আগামী কয়েক মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশ এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।
এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও ভাগাভাগি সেবা, অনলাইন ভিডিও গেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গী ও কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবে আসক্তি তৈরি করে এমন বিভিন্ন সুবিধা, ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে করা সুপারিশ ব্যবস্থা, অনন্ত স্ক্রল, পুরস্কারের মাধ্যমে ব্যবহার বাড়ানোর কৌশল এবং অপরিচিত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
শিশুদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সঙ্গী ও কথোপকথনভিত্তিক সেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।
একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ অ্যালগরিদম তৈরি এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দিতে হবে। ব্যবহারকারীদের কাউকে আটকে দেওয়া বা তার বার্তা বন্ধ করার সুবিধাও সহজ করার কথা বলা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, তুরস্কসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, তা ইউরোপের ক্ষেত্রেও বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
