দিল্লিতে ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ আন্দোলন ঘিরে ধরপাকড়, আটক প্রায় ৫০০

দিল্লিতে ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ আন্দোলন ঘিরে ধরপাকড়, আটক প্রায় ৫০০

আন্তর্জাতিক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জেন-জিদের ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ‘ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল প্রোটেস্ট’ (সিজেপি) আয়োজিত এই বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিদের আটক করা হয়। কর্মসূচি শুরুর আগেই কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হেফাজতে নেওয়ার খবরও সামনে এসেছে।

দিল্লি বিমানবন্দরে আটক তিন নেতা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং দলটির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বহনকারী উড়োজাহাজ দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই সেখানে যায় পুলিশ। পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগেই তাদের আটক করা হয়।

এদিকে, হরিয়ানার গুরুগ্রামে নিজের বাসভবন থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৩ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন আন্দোলন ঘিরে শুক্রবার থেকেই দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুরো শহরে দিল্লি পুলিশসহ ২৩ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কথা জানা গেছে।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। যন্তর-মন্তরে স্থাপন করা হয়েছে সাত স্তরের ব্যারিকেড। বাসে তল্লাশির পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে। অন্য রাজ্য থেকে বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ ঠেকাতেও তৎপর রয়েছে পুলিশ।

বন্ধ মেট্রো স্টেশন, বাতিল ট্রেন বিক্ষোভের কারণে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ বন্ধ রাখার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে কয়েক শ দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন।

স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার তথ্যও উঠে এসেছে।

যন্তর-মন্তরের আশপাশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে গাড়িতে তোলার অভিযোগও উঠেছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস। তাঁর অভিযোগ, রাজধানীজুড়ে এমনভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে যে সাধারণ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি একজন সংসদ সদস্য হিসেবেও তিনি স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলে দাবি করেন।

ব্রিটাস জানান, তাঁকে অন্তত ছয়টি স্থানে আটকে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কেন এই বিক্ষোভ? ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির দাবি, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা, যাতায়াত ও জনসাধারণের চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।