দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এতে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে। অন্যদিকে, রুপার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১১৬ টাকা কমানো হয়েছে।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পাঁচ দিনের ব্যবধানে আবারও দাম কমানো হলো।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি সোনা ও রুপার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে সোনার দামের নিম্নমুখী প্রবণতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আজকের সোনার দাম কত?
নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরির দাম হলো—
- ২২ ক্যারেট: ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা
- ২১ ক্যারেট: ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা
- ১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা
- সনাতন পদ্ধতি: ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা
এর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।
রুপার নতুন দাম কত?
সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি রুপার দাম হলো—
- ২২ ক্যারেট: ৪ হাজার ১৯৯ টাকা
- ২১ ক্যারেট: ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা
- ১৮ ক্যারেট: ৩ হাজার ৪৪১ টাকা
- সনাতন পদ্ধতি: ২ হাজার ৬২৪ টাকা
উল্লেখ্য, সোনা ও রুপার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যুক্ত রয়েছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দামের পরিস্থিতি
দেশের বাজারে সোনার দাম কমলেও মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রতি আউন্স সোনার দাম ৩২ ডলার এবং রুপার দাম ৪২ সেন্ট বেড়েছে।
তবে সামগ্রিক হিসাবে গত এক মাসে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১৪৫ ডলার কমেছে। গত ছয় মাসে কমেছে ৬৫৯ ডলার।
সাধারণত যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। তবে এবার ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও বিশ্ববাজারে সোনার দামে উল্টো নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে মার্কিন ডলারভিত্তিক বন্ডের সুদ বেড়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সোনার পরিবর্তে এসব বন্ডে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছেন। বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার পেছনে এটিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্য পরিবর্তনের কারণে দেশের বাজারেও মূল্যবান এই দুই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।
