গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে হামলায় নিহত তৌফিক শেখকে তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের ‘লায়লা স্টাইল লিমিটেড’-এর শ্রমিক তৌফিকের মরদেহ ছয়ঘরিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, গত সোমবার গাজীপুর নগরীর জয়দেবপুর থানার বাহাদুরপুর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার সময় তৌফিকের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় লাঠি ও ইটের আঘাতে তিনি মাথায় গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তৌফিক ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবিবর রহমান তবির ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে এক বন্ধুর মাধ্যমে পোশাক কারখানায় চাকরি নেন তৌফিক। গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে চলমান আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন।
তৌফিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বড় ভাই হারুন মিয়া।
কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তৌফিক। তার মৃত্যুতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শারমিন বেগম ও দেড় বছরের সন্তান অসহায় হয়ে পড়েছেন।
