“বিচার সংস্কারের লক্ষ্য প্রশাসনিক নয়, নৈতিক ও জনগণকেন্দ্রিক : প্রধান বিচারপতি

“বিচার সংস্কারের লক্ষ্য প্রশাসনিক নয়, নৈতিক ও জনগণকেন্দ্রিক : প্রধান বিচারপতি

জাতীয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৭৫ বছরপূর্তি (হীরক জয়ন্তী) ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার সংস্কারের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক নয়, বরং নৈতিক ও জনগণকেন্দ্রিক হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “সংস্হাগুলো ক্ষমতা নয়, মানুষকে সেবা দেবে; কর্তৃত্ব বৈধতার সঙ্গে যুক্ত হবে এবং বিচার বিভাগ জনগণের আস্থার নৈতিক অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে।”

প্রধান বিচারপতির মা ড. সুফিয়া আহমেদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং দেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন। তিনি তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,

“ড. সুফিয়া আহমেদ ছিলেন সেই বিরল প্রজন্মের একজন, যার বুদ্ধিবৃত্তিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নৈতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। তার জীবন নারীর একাডেমিক ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার নৈতিক শুদ্ধতার প্রতীক।”

প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন,

“ইতিহাসের গভীর বোধ ছাড়া কোনো সংস্কারক প্রজ্ঞাবান হতে পারেন না। আইন হলো জাতির নৈতিক ইতিহাস এবং ইতিহাস নির্দেশ করে কেন সমাজকে আরও ভালো হতে হবে।”

তিনি সম্প্রতি মিসরের বিবলিওথেকা আলেকজান্দ্রিনা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগার মানুষের মধ্যে জ্ঞানের মাধ্যমে সংযোগ এবং সভ্যতার সম্মিলনের প্রতীক। একইভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জ্ঞানের আলোতে জাতিকে আলোকিত করছে।

বিচার বিভাগীয় সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন,

“বিচার বিভাগ কেবল ঐতিহ্যের স্বস্তিতে টিকে থাকতে পারে না। সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হলে সংস্কার অপরিহার্য। গত ১৫ মাসে আমরা বিচারব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জনগণের সহজলভ্য বিচার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।”

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, এবং সভাপতিত্ব করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস।