জাতীয় সংসদের সম্ভাব্য উচ্চকক্ষে কোন দল কত আসন পাবে?

জাতীয় সংসদের সম্ভাব্য উচ্চকক্ষে কোন দল কত আসন পাবে?

জাতীয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভোটের পরিসংখ্যান, গণভোটের রায় এবং সম্ভাব্য উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত ভোটের হার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্ন এখন কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনে ২৯০ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিএনপি এককভাবে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের মোট ভোট দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ১ শতাংশে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি সামনে আসে। তবে বিএনপি বলছে, তারা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে এবং আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট, আর তাদের নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। জোটের শরিক এনসিপি ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোর অনেকেই ১ শতাংশের কম ভোট পেয়েছে। সাবেক বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ১৯৯ আসনে লড়ে দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট অর্জন করেছে।

নির্বাচনের দিন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। এই ফল অনুযায়ী ভোটের অনুপাতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কাঠামো নিয়ে সনদের একাধিক সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলগুলো উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাবে। সেই হিসাবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আসন পেতে পারে। তবে সংসদের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে।

জামায়াতের নেতারা বলছেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতেই উচ্চকক্ষ গঠন হওয়া উচিত। অন্যদিকে বিলুপ্ত ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের রাজনৈতিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন-পরবর্তী এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।