কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যবহৃত চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কোং এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা এশিয়ার প্রযুক্তি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার সকালে স্যামসাংয়ের শেয়ারদর এক পর্যায়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম চারগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। এই উত্থানের মাধ্যমে স্যামসাং এখন তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)-এর পর দ্বিতীয় এশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করল।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই ডেটা সেন্টার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসিং চাহিদা বাড়ায় মেমোরি চিপ বাজারে নতুন একটি শক্তিশালী “সুপার সাইকেল” তৈরি হয়েছে। স্যামসাংয়ের পাশাপাশি এসকে হাইনিক্স এবং টিএসএমসি-ও এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশীদার হিসেবে সামনে এসেছে। এসব কোম্পানির শেয়ারমূল্য সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর বিভাগ সম্প্রতি মার্চ প্রান্তিকে অভূতপূর্ব মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৮ গুণ বেশি। মূলত এআই ডেটা সেন্টারের বিপুল অর্ডার এবং সরবরাহ সংকটের কারণে চিপের দাম বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বড় পরিমাণে কোসপি সূচকের শেয়ার কিনছেন, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তবে কোম্পানিটি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখেও রয়েছে। মোবাইল ফোন ও ডিসপ্লে বিভাগে আয় কমছে এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে আয়ের অংশ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় শ্রম অসন্তোষের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বাজারের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী এক বছরে স্যামসাংয়ের শেয়ার আরও প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এআই খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগের এই ঢেউ স্যামসাংসহ এশিয়ার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
