আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ইংল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের আকস্মিক অবসরের ঘোষণায় বিস্মিত হয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব। ঘোষণার পর থেকেই সাবেক ক্রিকেটার, সতীর্থ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। সবাই স্মরণ করছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটে স্টোকসের অসাধারণ অবদান।
ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার সিরিজ নির্ধারণী টেস্টের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে, চা বিরতির মাত্র ১৫ মিনিট আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান ১২২ টেস্ট খেলা এই অলরাউন্ডার।
অবসরের ঘোষণার পর বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল ভন বলেন, “আমি সত্যিই হতবাক। এমন সিদ্ধান্ত একেবারেই কল্পনা করিনি। কেন সে এই সিদ্ধান্ত নিল, সেটি তার মুখ থেকেই শুনতে হবে।”
ঘোষণার পর নিজের প্রথম বলেই জাক ফোকসের উইকেট তুলে নেন স্টোকস। সেই মুহূর্তে ভন মন্তব্য করেন, “ইংল্যান্ড যে কী হারাতে যাচ্ছে, এই উইকেটই তার প্রমাণ। দলের যখনই তাকে প্রয়োজন হয়েছে, সে সাড়া দিয়েছে।”
আরেক সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক বলেন, “সময়টা বিস্ময়কর হলেও স্টোকস সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেয়। আমার বিশ্বাস, গত কয়েক মাস ধরেই বিষয়টি তার মাথায় ছিল।”
স্টোকসের দীর্ঘদিনের সতীর্থ ক্রিস ওকস বলেন, “স্টোকস সব সময় মাঠে নিজের শতভাগ উজাড় করে দিয়েছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য সে ছিল অসাধারণ নিবেদিতপ্রাণ একজন ক্রিকেটার।”
সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড অবশ্য মজার ছলে বলেন, “আমার তো মনে হচ্ছে, শেষ ইনিংসে ওপেন করতে নেমে সে শতরানও করে ফেলবে।”
টকস্পোর্টে সাবেক উইকেটরক্ষক ম্যাট প্রাইর বলেন, “স্টোকস এমন একজন অধিনায়ক, যার জন্য সতীর্থরা সবকিছু উজাড় করে দিতে প্রস্তুত থাকে। তার নেতৃত্বকে কখনোই ছোট করে দেখা উচিত নয়।”
স্টোকসের অবসরের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট হারাল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী অলরাউন্ডার ও অনুপ্রেরণাদায়ী এক নেতাকে। তার বিদায়ে ক্রিকেটাঙ্গনে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ।
