রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনের সংস্পর্শে আনা ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আবদুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, বুধবার কিশোরের পক্ষে তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন।
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিন আবেদন
কিশোরের আইনজীবী খোরশেদ মিয়া আলম জানান, তাঁর মক্কেলের অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন চাওয়া হয়েছিল। তবে শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। ওই দিনও তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত তখনও জামিন দেননি।
যেভাবে প্রাণ যায় নির্মাণশ্রমিকের
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে মেহেদী হাসান (২৪) নামের এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হন। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
ঘটনার সময় মেহেদী ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে গেলে গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গাড়িচালক হিসেবে আসামি করা হয়। তবে মামলায় কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশ এখনো আকাশ মারককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের পর কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হয়
দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে উপস্থিত লোকজন আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। পরে তাকে আইনের সংস্পর্শে আনা হয়।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, কিশোরটি ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বয়স ১৭ বছর। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত বলে পুলিশ সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
