ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, সোনার গয়না, বিদেশি সিগারেট, যৌন উত্তেজক ওষুধ, ইনসুলিন, মদ, ল্যাপটপ ও মুঠোফোন।
মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযানে যেসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুই দিনের অভিযানে মোট ৫৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ১০০ গ্রাম সোনার গয়না, ৩২টি ল্যাপটপ ও তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৭ লিটার মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়, ৫৫ দশমিক ৮ কেজি ওষুধ, ৬৪ দশমিক ১৮ কেজি আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম এবং ৬৮ কেজি অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রী জব্দ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বুধবার ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে যৌন উত্তেজক ওষুধ ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ এবং পরিত্যক্ত কার্টন থেকেও অন্যান্য পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
কমলাপুরের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৮৭টি আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ও ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।
সংস্থাটির দাবি, এসব পণ্য আকাশপথে দেশে আনার পর বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র এবং কমলাপুরের আরএমএস কেন্দ্র হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর, ডাক বিভাগ ও রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের একটি সম্ভাব্য চোরাচালান কৌশল শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অননুমোদিত ওষুধ পরিবহনে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় না রেখে ইনসুলিন পরিবহন করলে এর গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে অবৈধ ওষুধের বাণিজ্য প্রতিরোধের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও অভিযানে গুরুত্ব পেয়েছে।
চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে নজরদারি অব্যাহত
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র এবং রেলপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধভাবে পণ্য আমদানি ও পরিবহন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।
