শুভাগতর শেষের ঝড়ে ‘প্রথম’ জয়ের খোঁজে মোহামেডান

খেলাধুলা

বৃষ্টিতে খেলার দৈর্ঘ্য কমে এসেছে ১৩ ওভারে। এমন ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই মারমুখী ব্যাটসম্যানদের ওপর বেশি ভরসা রাখার কথা যেকোনো দলের। কিন্তু মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব যেন করল ঠিক উল্টোটাই। পুরো আসরে দলের পক্ষে সবচেয়ে মারমুখী খেলা শুভাগত হোমকে নামাল ইনিংসের মাত্র ১৫ বল বাকি থাকতে।

অবশ্য ছয় নম্বরে নেমেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন দলের অধিনায়ক। মোহামেডানের ইনিংসের প্রথম ১০.৩ ওভারে বাউন্ডারি হয়েছিল মাত্র ৬টি। আর শুভাগত হোম নামার পর শেষের ১৫ বলে ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে হয়েছে ২টি ওভার বাউন্ডারি।

শুরুর ১০.৩ ওভারে মাত্র ৬৪ রান করা মোহামেডান, ১৩ ওভার শেষে পেয়েছে ৫ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রানের সংগ্রহ। অর্থাৎ শেষের ১৫ বল থেকে এসেছে ৩৯ রান। যেখানে শুভাগতর অবদান ২টি করে চার-ছয়ের মারে ৮ বলে অপরাজিত ২৩ রান। আর মাহমুদুল হাসান লিমন করেছেন ৬ বলে ৯ রান।

অধিনায়কের শেষদিকের ঝড়েই সুপার লিগে নিজেদের প্রথম জয়ের জন্য লড়িয়ে পুঁজি দাঁড় করাতে পেরেছে মোহামেডান। তারা ১৩ ওভারে ১০৩ রান করলেও, বৃষ্টি আইনে দোলেশ্বরকে জয়ের জন্য করতে হবে ১০৭ রান। এ রান করতে পারলে অল্প সময়ের জন্য হলেও টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে ফরহাদ রেজার দল।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের শেষ দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মোহামেডান। নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়েছিল খেলা। কিন্তু মোহামেডানের ইনিংসের মাত্র ১৫ বল খেলা হতেই নামে বৃষ্টি।

এরপর যখন পুনরায় শুরু হয় খেলা, তখন দুই ইনিংস থেকে কেটে নেয়া হয় ৭ ওভার করে। ফলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ১৩ ওভার প্রতি ইনিংসে। এমন ম্যাচে ধীর ব্যাটিং করেছেন মোহামেডান ওপেনার অভিষেক মিত্র (১২ বলে ৩) ও তিনে নামা শাকিল হোসেন (১৯ বলে ১৮)।

শুরুর এই ধীর অবস্থা কাটাতে হাত খুলে খেলতে শুরু করেছিলেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। কিন্তু বেশিক্ষণ পারেননি। এনামুল হক জুনিয়রের ওভারে আউট হওয়ার আগে ২১ বলে ২৬ রান করেন তিনি। হতাশ করেন শামসুর রহমান শুভ (৯ বলে ৯) ও ইরফান শুক্কুর (৪ বলে ৭)।

এরপর মূলত শেষ ওভারেই আসল ঝড়টা তোলেন শুভাগত। কামরুল ইসলাম রাব্বির করা সেই ওভারে আসে ২৮ রান। ওয়াইড দিয়ে ওভার শুরুর পর ১ রান নেন লিমন। পরের চার বলে যথাক্রমে ৪, ৪, ৬ ও ৬ হাঁকান শুভাগত। এর মধ্যে প্রথম ছয়ের ডেলিভারিটি ছিল কোমর উচ্চতার নো বল।

ওভারের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নেন শুভাগত আর শেষ বলে থার্ড ম্যান দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলীয় সংগ্রহ একশ পার করান লিমন। দোলেশ্বরের পক্ষে ২ উইকেট নিয়েছেন এনামুল জুনিয়র। আর আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি কামরুল রাব্বি ৩ ওভারে খরচ করেছেন ৪৫ রান, পেয়েছেন ১টি উইকেট।