ইসলামে দাড়ি রাখা: হাদীস ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ
ইসলাম ধর্মে দাড়ি রাখা কেবল একটি ব্যক্তিগত সৌন্দর্য বা রুচির বিষয় নয়, বরং এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি স্পষ্ট নির্দেশ এবং সুন্নাতে মু’আক্কাদা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
“خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ، وَفِّرُوا اللِّحَى، وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ”
(সহীহ বুখারী: ৫৮৯২, সহীহ মুসলিম: ২৫৯)
অর্থ: “মুশরিকদের বিরোধিতা করো, দাড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ ছেঁটে ফেলো।”
এই হাদীসের ভিত্তিতে অধিকাংশ ইসলামি ফকীহ ও আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব। সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকেও প্রমাণিত হয়—তারা দাড়িকে এক মুষ্টি পরিমাণ লম্বা রাখতেন এবং অতিরিক্ত অংশ ছেটে দিতেন (বুখারী, মুয়াল্লাক)।
তবে ইসলামে বাহ্যিক আমলের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চরিত্র, ইনসাফ, সদাচরণ, হালাল রুজি, ও ফরজ আমল পালনের গুরুত্ব আরও বেশি। কেউ যদি দাড়ি রাখে কিন্তু অন্যদের প্রতি দুর্ব্যবহার করে, অসততার আশ্রয় নেয়, বা ফরজ আমল ত্যাগ করে, তবে তার এই বাহ্যিক আমল যথেষ্ট নয়।
ইসলামে কাউকে উপহাস করা হারাম। কেউ দাড়ি রাখতে শুরু করলে তাকে উৎসাহ দেওয়া জরুরি। একইভাবে, বিয়ে, সম্পত্তি বণ্টন, ও পারিবারিক ইনসাফ—সবই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা বাহ্যিক রূপ, অভ্যন্তরীণ চরিত্র ও সামাজিক ন্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত। দাড়ি রাখা তার একটি অংশমাত্র—পুরো দ্বীনের সৌন্দর্য আত্মস্থ করাই আসল উদ্দেশ্য।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের ওপর চলার তাওফিক দিন। আমিন।
