প্রোটিন আমাদের শরীরের পেশি, ত্বক, চুল ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। ঘাটতি থাকলে ফোলাভাব, মেজাজ পরিবর্তন, ক্লান্তি, চুল–নখের সমস্যা ও অতিরিক্ত খিদে দেখা দিতে পারে। দুধ, ডিম, মাছ, ডাল, সয়াবিন, পনির ও শুকনো ফল প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস।
পুনঃলিখিত নিউজ:
প্রোটিন আমাদের শরীরের অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান। এটি শুধু পেশি গঠনে সাহায্য করে না, বরং ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনযুক্ত খাবার খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভর্তি থাকে এবং বারবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন রাখা আবশ্যক।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রোটিন প্রয়োজন ৫০-৬০ গ্রাম, আর নারীদের তা ৭০-৮০ গ্রাম। তবে ওজন, উচ্চতা, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে প্রোটিনের চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে। খাদ্যাভ্যাসের ত্রুটি অনেক সময় শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি করে।
প্রোটিনের ঘাটতির ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ:
ফোলাভাব: প্রোটিন রক্তে তরল পদার্থের ভারসাম্য রাখে। এর অভাবে হাত, পা বা পেটে পানি জমে ফোলাভাব দেখা দেয়।
মেজাজ পরিবর্তন: প্রোটিনের মধ্যে থাকা অ্যামিনো এসিড মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। ঘাটতির কারণে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও মেজাজ পরিবর্তন হতে পারে।
ক্লান্তি: পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি থাকলে এটি প্রোটিনের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। শরীরে শক্তি সরবরাহকারী হরমোন ও এনজাইম তৈরির জন্য প্রোটিন জরুরি।
চুল, নখ ও ত্বকের সমস্যা: কেরাটিন ও কোলাজেন প্রোটিনে থাকে। প্রোটিন না থাকলে চুল পড়া, নখ ভাঙা ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
অতিরিক্ত খিদে: প্রোটিন দীর্ঘ সময় ক্ষুধা ও খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখে। কম প্রোটিন থাকলে বারবার খিদে লাগে, মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বৃদ্ধি পায় এবং এনার্জি কমে যায়।
বেশিরভাগ সময় মানুষ এই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করে, যা সময়মতো শনাক্ত না হলে জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। দুধ, ডিম, মাছ, ডাল, সয়াবিন, পনির ও শুকনো ফল প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস। পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণের পরও উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
