যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক গুগলের সার্চ ব্যবসায় অ্যান্টি-কম্পিটিটিটিভ আচরণ প্রতিরোধে বড় ধরনের ব্যবসায়িক পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছেন, তবে গুগলকে বিভক্ত বা ভাঙার নির্দেশ দেয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতের বিচারক অমিত পি. মেহতা মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, গুগল সার্চ, ক্রোম, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা জেমিনি অ্যাপগুলিকে অন্য অ্যাপ বা রাজস্ব চুক্তির সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করতে পারবে না। উদাহরণস্বরূপ, প্লে স্টোর লাইসেন্স শর্তে নির্দিষ্ট অ্যাপ বিতরণ বা রেভিনিউ-শেয়ার চুক্তি চাপানো যাবে না।
এছাড়া গুগলকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সার্চ ইনডেক্স ও ব্যবহারকারীর ইন্টারঅ্যাকশন ডেটা শেয়ার করতে হবে, যাতে বাজারে একচেটিয়া আচরণ রোধ করা যায়। সার্চ ও সার্চ বিজ্ঞাপন সেবা প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্ট্যান্ডার্ড রেটে প্রদান করতে হবে, যাতে তারা মানসম্মত প্রযুক্তি ও ফলাফল দিতে সক্ষম হয়। তবে বিচারক মেহতা চূড়ান্ত রায় এখনও দেননি। তিনি গুগল ও মার্কিন বিচার বিভাগকে (ডিওজে) ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি সংশোধিত চূড়ান্ত রায় জমা দিতে বলেছেন।
প্রেক্ষাপট প্রায় এক বছর আগে মেহতা রায় দেন, গুগল অনলাইন সার্চ বাজারে অবৈধভাবে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে। রায় কার্যকর হওয়ার ৬০ দিন পর থেকে ছয় বছরের জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি নজরদারির দায়িত্ব পালন করবে।
ডিওজে প্রাথমিকভাবে আরও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, যেমন গুগলকে ক্রোম ও অ্যান্ড্রয়েড বিক্রি করতে বাধ্য করা এবং অ্যাপল, স্যামসাংসহ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে গুগলের বিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করা। তবে বিচারক মেহতা এই প্রস্তাবের তুলনায় অনেক সীমিত ও সংযমী নির্দেশ দিয়েছেন।
গুগল গত এক দশক ধরে সার্চ মার্কেটে প্রায় ৯০% শেয়ার ধরে রেখেছে। গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই বলেন, জোরপূর্বক ডেটা ভাগাভাগি করার নির্দেশ “ডি ফ্যাক্টো বিভাজন” হিসেবে কাজ করবে। ইউরোপের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) উদাহরণ টেনে মেহতা বলেন, ইউরোপে গুগলকে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে নির্দিষ্ট ডেটা শেয়ার করতে হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে তার নির্দেশ অস্থায়ী ও সীমিত।
বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা আইনের বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম কোভাচিক মন্তব্য করেছেন, “এটি বিরল ঘটনা—এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি বড় অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার প্রতিকার প্রক্রিয়া চলছে।” তিনি আরও বলেন, গুগলের আপিল থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের শুরু পর্যন্ত।
