লেখক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী এবং বামপন্থি রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর আর নেই। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
আন্তরিক শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে জুরাইন কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
জীবন ও শিক্ষাজীবন:
বদরুদ্দীন উমর জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর, ব্রিটিশ ভারতের বর্ধমান শহরে। তাঁর পিতার নাম আবুল হাশিম এবং মাতার নাম মাহমুদা আখতার মেহেরবানু বেগম। ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৫৫ সালে দর্শনে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিপিই (দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি) ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রাথমিকভাবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ খোলা হলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।
রাজনীতি ও অবদান:
১৯৬৮ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে বামপন্থি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী। ১৯৭৫ সালে পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং ২০০৩ সালে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন।
সৃজনশীলতা ও বই:
বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন ৬০টিরও বেশি বই, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
-
পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি
-
সংস্কৃতির সংকট
-
সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা
-
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ
-
বাঙলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সমস্যা
-
যুদ্ধ পূর্ব ও যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ
-
ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
পুরস্কার ও স্বীকৃতি:
২০২৫ সালে শিক্ষা ও গবেষণায় গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। তবে বদরুদ্দীন উমর ব্যক্তিগতভাবে এই পুরস্কার গ্রহণ করেননি। তিনি জানিয়েছিলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যা তিনি গ্রহণ করেননি।
বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যু দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ ও বামপন্থি রাজনীতির জন্য একটি বিশাল ক্ষতি।
