দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বর্তমান সংকটের সাংবিধানিক সমাধানের পথ সুগম করার জন্যই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজধানী কাঠমাণ্ডু এবং নেপালজুড়ে সকাল থেকেই বিক্ষোভ চলছে। প্রতিবাদকারীরা কালঙ্কি এলাকায় সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। সহিংস বিক্ষোভে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনীতিকের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাসভবনও রয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও আক্রমণের শিকার হয়। ইতিমধ্যে তিনজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন।
সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন রেগমি জানান, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দেশব্যাপী চলমান সহিংস বিক্ষোভের কারণে নেপালে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র গ্যানেন্দ্র ভুল জানান, রাজধানীর বাইরের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যাওয়ায় ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এছাড়া কাঠমাণ্ডু বিমানবন্দরের দক্ষিণ রুটে তীব্র ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পরও জারি করা কারফিউ অমান্য করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নেপালজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
