তরুণদের ফুসফুস ক্যান্সার: কারণ উপসর্গ ও প্রতিরোধের উপায়

তরুণদের ফুসফুস ক্যান্সার: কারণ উপসর্গ ও প্রতিরোধের উপায়

স্বাস্থ

ফুসফুস ক্যান্সার আগে মূলত ধূমপায়ী বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, তরুণদের মধ্যে এই রোগের হার বাড়ছে, এমনকি যারা কখনও ধূমপান করেননি তাদের ক্ষেত্রেও। তাই ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ, প্রাথমিক উপসর্গ ও প্রতিরোধের উপায় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণদের ফুসফুস ক্যান্সারের প্রধান কারণ

১. ধূমপান:
ফুসফুস ক্যান্সারের ৮০–৯০% ক্ষেত্রে ধূমপান প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ নারীদের ৭২% এবং পুরুষদের ৮১% আগে ধূমপানের অভিজ্ঞতা ছিল। তবুও ধূমপান না করা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, যা ইঙ্গিত দেয়—অন্যান্য ঝুঁকিও রয়েছে।

২. পরিবেশগত কারণ:

  • ইউরেনিয়াম ক্ষয় থেকে তৈরি রাডন গ্যাস ঘরে উপস্থিতি ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে শৈশব ও তরুণ বয়সে।

  • সূক্ষ্ম ধূলিকণা, শিল্প দূষণ ও যানজটপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের ঝুঁকি বেশি।

  • অ্যাসবেস্টস, সিলিকা, ডিজেলের ধোঁয়া বা আর্সেনিকের সঙ্গে সংস্পর্শে থাকা ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত করে।

  • কাঠ বা কয়লা দিয়ে রান্না করলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে ঝুঁকি বাড়ে, যা গ্রাম অঞ্চলের নারীদের বেশি প্রভাবিত করে।

৩. জেনেটিক (বংশগত) কারণ:
কিছু তরুণ রোগীর ফুসফুস কোষে বিশেষ জিন মিউটেশন পাওয়া যায়, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া এইচপিভি ও এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত ধূমপান, পরিবেশ দূষণ, জেনেটিক প্রবণতা ও রাসায়নিক সংস্পর্শ—সব মিলেই ঝুঁকি তৈরি হয়।

ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গ

  • রক্ত বা বাদামি রঙের কফ ওঠা

  • শ্বাস নেওয়া বা কাশির সময় বুকের ব্যথা

  • শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি

  • বারবার ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়া হওয়া

  • অকারণে ওজন কমা ও ক্ষুধা হ্রাস

  • কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী গলা ব্যথা

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা

ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়ালে হাড়ে ব্যথা, মাথাব্যথা, স্নায়বিক সমস্যা বা লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া দেখা যেতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

১. ধূমপান এড়ানো:
সম্পূর্ণভাবে ধূমপান বন্ধ করলে ঝুঁকি অনেকাংশে কমে। কাউন্সেলিং, নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা চিকিৎসকের ওষুধ ব্যবহার সহায়ক।

২. পরোক্ষ ধূমপান এড়ানো:
ধূমপায়ীদের সংস্পর্শ এড়ানো এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

৩. রাডন গ্যাস পরীক্ষা:
ঘরে রাডন গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা:
রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ এড়াতে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত।

৫. রান্নাঘরের বাতাস চলাচল:
কাঠ বা কয়লা দিয়ে রান্নার ক্ষেত্রে ভালো ভেন্টিলেশন থাকা প্রয়োজন, বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে নারীদের জন্য।

৬. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন:

  • ফল ও সবজি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য খাওয়া

  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম

এসব অভ্যাস ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।