মালয়েশিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি স্থানীয় সামাজিক কাঠামো, জননিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং প্রতিবেশী সৌহার্দ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
মালয়েশিয়া কমিউনিটি কনসার্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দাতুক সেরি হালিম ইশাক জানিয়েছেন, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে কিছু আবাসিক এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, যদিও কিছু অর্থনৈতিক খাত বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল, তবুও অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা স্থানীয়দের অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত করছে।
প্রধান সমস্যা ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপ: পুচং, সাইবারজায়া, ক্লাং ও সেলায়াং এলাকার আবাসিক অঞ্চলে ভিড়, নোংরামি ও সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি।
স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন বিভাগ ও রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
নিয়মিত নজরদারি, ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগ এবং মানবপাচার ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
হারিয়ান মেট্রোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুচংয়ের কামপুং বাটু ১২ এলাকা ‘লিটল করাচি’তে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিক বসবাস করছেন এবং ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ দখল করেছেন। তারা শুধু শ্রমিক নয়, পরিবার নিয়ে বসবাসকারী ব্যবসায়ী বা ‘তাউকে’ হিসেবে প্রতিষ্টিত।
এছাড়া, কিছু স্থানীয় নারী বিদেশি নাগরিকদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও, পরে প্রতারিত হয়ে ঋণ বোঝা বহন করছেন, কারণ বিদেশি স্বামী ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও ব্যাংক ঋণ গ্রহণের পর পালিয়ে যাচ্ছেন।
চেয়ারম্যান হালিমের আহ্বান: এই বিদেশি নাগরিকদের অনুপ্রবেশের সমস্যা দ্রুত, সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে সমাধান করতে হবে। সরকারের উচিত পেশাদার ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, যেন মালয়েশিয়ার জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে।’
