গ্লোবাল সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা কাসপারস্কির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার সরকারি ও কূটনৈতিক সংস্থাগুলোকে নিশানা করে নতুন এক অত্যন্ত দক্ষ হ্যাকার গ্রুপ ‘মিস্টেরিয়াস এলিফ্যান্ট’ সক্রিয় রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে কার্যক্রম চালাচ্ছে এই এডভান্সড পারসিস্টেন্ট থ্রেট (APT) গ্রুপ, ২০২৫ সালে তাদের লক্ষ্য তালিকায় বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, মিস্টেরিয়াস এলিফ্যান্ট শুধুমাত্র দ্রুত অর্থলাভের উদ্দেশ্যে কাজ করে না; বরং রাষ্ট্র-সমর্থিত গোয়েন্দা সংস্থার মতো নিখুঁত পরিকল্পনা ও ধৈর্যশীলতার সঙ্গে অনুপ্রবেশ চালায়। তারা লক্ষ্য করে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম। এদের প্রধান লক্ষ্য পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা হলেও কিছু সীমিত হামলার প্রমাণ অন্যান্য দেশেও পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শনাক্ত অনুপ্রবেশের মধ্যে রয়েছে—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন এবং কৌশলগত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ডিজিটালাইজেশন, সরকারি আইটি অবকাঠামোয় নিরাপত্তার ঘাটতি এবং ব্যক্তিগত অ্যাপ ব্যবহার বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ।
মিস্টেরিয়াস এলিফ্যান্টের মতো হুমকির মোকাবিলায় প্রয়োজন:
-
নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট ও প্যাচ ম্যানেজমেন্ট
-
নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ ও অস্বাভাবিক কার্যকলাপ শনাক্তকরণ
-
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মীদের জন্য নিয়মিত সাইবার সচেতনতা প্রশিক্ষণ
-
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রোঅ্যাকটিভ এবং সমন্বিত সাইবার নিরাপত্তা কৌশল ছাড়া এই ধরনের হ্যাকার গ্রুপের কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিহত করা কঠিন।
