মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ২৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে। হোয়াইট হাউজের মাধ্যমে উপস্থাপিত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে নাটো সেনা মোতায়েন করা যাবে না, তবে পেন্টাগনের মাধ্যমে দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানাচ্ছে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে গত ৩০ বছরের জটিলতা সমাধান হবে এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানো হবে। তবে ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক, প্রেসিডেন্ট ভোলদিমির জেলেনস্কি প্রস্তাবটি নাখোশভাবে গ্রহণ করেছেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী:
-
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা কমানো হবে ৬ লাখে।
-
খেরসন ও জাপোরিজঝিয়া অঞ্চল বাফার জোন হিসেবে থাকবে, রাশিয়ার দখল ছাড়া।
-
রাশিয়া চুক্তি ভঙ্গ করলে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ নেবে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব শান্তিচুক্তির ভিত্তি স্থাপনে সহায়ক হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইউক্রেনের অনুমোদন পাননি এবং প্রস্তাব চূড়ান্ত নয়।
জেলেনস্কি বলেছেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়, যেখানে মর্যাদা হারানো ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি—দুটোর মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রস্তাব মেনে নিলে স্বল্প ঝুঁকি, আর না মানলে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
