কিশোরগঞ্জে আবারও শিয়ালের আক্রমণে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে একই এলাকায় দ্বিতীয় এমন ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের পুঁথিপাড়া গ্রামে দুই বছরের শিশু হুমাইরা আক্তার নিখোঁজ হলে কিছুক্ষণ পর বাড়ির পাশের ঝোপঝাড়ে তাকে পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, শিশুটিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল একটি শিয়াল।
নিহত হুমাইরার বাবা হুমায়ুন কবির জানান, খেলাধুলা শেষে ফেরার পথে তার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বাড়ির পাশের জঙ্গলে তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও আশপাশে দুটি শিয়ালকে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল।
এর আগেও, প্রায় এক বছর আগে একই ইউনিয়নের তেরহাসিয়া গ্রামে দুই বছরের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল শিয়ালের আক্রমণে। দুইটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কাছাকাছি অবস্থান স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় বনজঙ্গল ও আখক্ষেত কমে যাওয়ায় শিয়ালের খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে এখন লোকালয়ে এদের উপস্থিতি বাড়ছে এবং মানুষজন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মান্নান জানান, শিয়ালটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হতে পারে। জলাতঙ্কযুক্ত বন্যপ্রাণীরা সাধারণত অস্বাভাবিক আচরণ করে।
জেলা বন বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা এএফজি মোস্তফা বলেন, “বনভূমি ধ্বংস ও খাদ্য সংকটের কারণে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। মানুষের সচেতনতা ও বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার ছাড়া এই ধরনের ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।”
স্থানীয়দের দাবি, শিয়ালের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে।
