বাকি ছিল শুধু শপথ গ্রহণ—শেষ মুহূর্তে ভেঙে গেল মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বপ্ন

বাকি ছিল শুধু শপথ গ্রহণ—শেষ মুহূর্তে ভেঙে গেল মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বপ্ন

আইন-আদালত

দশকেরও বেশি সময় আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইরানি অভিবাসী সানাম অবশেষে মার্কিন নাগরিক হতে চলেছিলেন। দীর্ঘ বছরের কাগজপত্র, অনুমোদন, পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই শেষে তিনি নাগরিকত্বের শেষ ধাপে পৌঁছান। তবে ৩ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব অনুষ্ঠানে শপথগ্রহণের মাত্র দুই দিন আগে হঠাৎ মার্কিন সরকার অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়।

সানাম হতবাক ও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। পরে তিনি জানতে পারেন, সমস্যা তার জন্মস্থানের কারণে। তিনি বিবিসিকে জানান, “কয়েক বছর কেটে গেছে, এখন শুধু ক্লান্ত বোধ হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমি কি এই প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যেতে পারব? এটি সত্যিই হৃদয়বিদারক।”

ওরেগন অঙ্গরাজ্যে স্বামীর সঙ্গে বসবাসকারী সানামের মতো আরও অনেক বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা এখন বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তারা নাগরিকত্বের সব ধাপ শেষ করেছেন, শুধু শেষ আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় ছিলেন।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অভিবাসন বিধি:
এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অংশ। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১৯ দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ২৬ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর আফগান নাগরিকের গুলিবর্ষণের পর নেয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন বলেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয়।

নিউ ইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিও ব্রুজোন জানান, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো অভিবাসীদের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে। বৈধ অভিবাসীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, কারণ দীর্ঘ নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরও তাদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া এখন থমকে গেছে।

ভেনিজুয়েলার জর্জের মতো আরও একাধিক অভিবাসীও হঠাৎ বাতিল হওয়া অনুষ্ঠানের ফলে হতাশা ও অস্পষ্ট ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছেন। জর্জ বলেন, “আমি শুধু চাই—যারা সব নিয়ম মেনে চলেছে, তারা যেন তাদের আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারে।”

সানামের স্বামী যোগ করেছেন, “যদি ন্যাশনাল গার্ডের ওপর হামলা না হতো, তাহলে এই সপ্তাহে আমার স্ত্রী নাগরিক হতেন। এই নীতি পরিবর্তনগুলো খুব দ্রুত করা হয়েছে।”