জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নারীরা। বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে তারা আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে ঐকমত্য কমিশন সংসদে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়। বড় দুই দলসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল আসন বৃদ্ধিতে একমত হলেও সরাসরি নির্বাচনের বিষয়ে রাজি হয়নি।
শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রস্তাব করে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। ইসলামপন্থী দলগুলোর অনীহা থাকলেও আপত্তি রেখেই দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৬৫ জন। জামায়াতে ইসলামী একটি আসনেও নারী প্রার্থী দেয়নি। তাদের সমমনা ও নিবন্ধিত আরও প্রায় ৩০টি দলের অবস্থাও একই।
বিএনপি মোট ১০ জন নারী প্রার্থী দিয়েছে, যা তাদের প্রস্তাবিত ৫ শতাংশের তুলনায় অনেক কম—মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ও বাসদ (মার্কসবাদী) ৯ জন করে নারী প্রার্থী দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণদের গড়া দল এনসিপি দিয়েছে তিনজন নারী প্রার্থী।
নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে জুলাই সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এখনো নারীবান্ধব হয়ে ওঠেনি।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন,
“অতীতে এর চেয়েও বেশি নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অনেক নারী মাঠে থাকে, আন্দোলনে থাকে; কিন্তু সংসদে তাদের উপস্থিতি দেখা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত যেখানে জয়ের সম্ভাবনা কম, সেখানে নারী প্রার্থী দেয়।”
নির্বাচন বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার বিষয়টিকে দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,
“ভোটারদের এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশ্ন করা উচিত। তাহলেই দলগুলো তাদের অঙ্গীকার রক্ষায় আরও যত্নবান হবে।”
এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কি আদৌ এগোবে নারী নেতৃত্ব? ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিল, নারী প্রতিনিধিত্বের লড়াই এখনো কঠিন।
