জুলাই আন্দোলনের পর নিজের আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)-এর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ)। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাকে কোটি কোটি টাকার মালিক বলে প্রচার করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লেখেন, “অনেকেই বলেন আমি কোটি কোটি টাকার মালিক। আমার সেই কোটি টাকা যদি কেউ দেখাতে পারেন, নিজে ফাঁসির দড়িতে ঝুলে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আগে আমি ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করতাম। সেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন আমার আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ।” নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মীর স্নিগ্ধ লেখেন, “মানুষ যা ভাবার ভাবুক। মরার পর যদি আমি মুগ্ধর সামনে গিয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াতে পারি, তাহলেই আমার জীবন সার্থক।”
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে প্রশ্ন ফেসবুক পোস্টে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মীর স্নিগ্ধ। তিনি বলেন, “অনেকে বলে বিচার হয়েছে। আমি বলি—না, বিচার হয়নি।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজনের রায় হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন দেশের বাইরে, যাদের রায় কার্যকর করা যাচ্ছে না। আর একজন সাবেক আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন—যাকে রাজসাক্ষী বানিয়ে গণহত্যার দায়ে মাত্র পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমার ভাইসহ প্রায় ১,৪০০ মানুষের যে গণহত্যা হয়েছে, তার বিচার কি তাহলে হয়েছে?” অভিযুক্তদের বিচার না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ মীর স্নিগ্ধ আরও বলেন, “যারা এখন হাজতে আছে—পুলক, দরবেশ বাবা, গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাবেক আইনমন্ত্রীসহ—তাদের রায় এখনো কেন ঘোষণা হয়নি?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যারা গণহত্যাকারীদের দেশ ছাড়তে সহায়তা করেছে, তাদের বিচার কোথায়? এখন পর্যন্ত একটা পুলিশের বিচার হয়েছে—এমন উদাহরণ কেউ দিতে পারবেন?”
ব্যক্তিগত বেদনার কথা শহীদ মীর মুগ্ধকে স্মরণ করে আবেগঘন ভাষায় তিনি লেখেন, “প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়াতে পারি না। নিজের চেহারা দেখলেই মুগ্ধর কথা মনে পড়ে। আল্লাহ কেন আমাদের দুজনের চেহারা এতটা একরকম করলেন, তিনিই জানেন।”
রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ব্যাখ্যা নিজের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মীর স্নিগ্ধ বলেন, “আমার রাজনীতিতে আসার অন্যতম কারণ ছিল এই গণহত্যার বিচার রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিত করতে যতটা সম্ভব কাজ করা।”
তিনি আরও লেখেন, “যারা আমার এই সিদ্ধান্তে নাখোশ, তারা যদি নিশ্চয়তা দেন যে এই দেশে এই গণহত্যার বিচার হবেই—খোদার কসম, তখন আমার চেহারাও আর দেখবেন না।”
